রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশকে সমর্থন দেবে আন্তর্জাতিক মহল


Published: 2017-09-11 09:39:21 BdST, Updated: 2017-09-20 08:01:52 BdST
rrরাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর যেভাবে নিধনযজ্ঞ চালাচ্ছে তাকে ‘গণহত্যা’ বলেই একমত পোষণ করেছে আন্তর্জাতিক মহল। মিয়ানমারের গণহত্যায় গত দুই সপ্তাহে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ৩ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে মানবিক ও রাজনৈতিক সহায়তা দিতেও সম্মতি জানিয়েছে বিভিন্ন দেশ। পাশিপাশি মিয়ানমারে নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রশংসাও করেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।
 
রোহিঙ্গা ইস্যুতে রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ঢাকায় নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকদের ব্রিফ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী। ব্রিফিংয়ে আগত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা বাংলাদেশকে এ ব্যাপারে সমর্থনের আশ্বাস দেন।
 
ব্রিফিংয়ে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত বিভিন্ন দেশ এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনৈতিকরা অংশ নেন। এ ছাড়া ঢাকাস্থ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি, জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার প্রতিনিধিরাও ব্রিফিংয়ে অংশ নেন।
 
ব্রিফিংয়ে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা ৭ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থী নিয়ে বাংলাদেশের সংকটের বিষয়টি বিদেশি কূটনৈতিকদের অবহিত করা হয়। এই সংকট নিরসনে এবং রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত যাওয়ার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক মহলের সহায়তাও কামনা করা হয়। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে রোহিঙ্গাদের জন্য রাখাইনে একটি ‘সেইফ জোন’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেছে। পাশাপাশি সন্ত্রাস দমনে সীমান্তে যৌথ অভিযান চালাতেও মিয়ানমারকে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
 
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী জানান, সব দেশই একমত হয়েছে যে, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালাচ্ছে এবং এটা গ্রহণযোগ্য নয়। কূটনীতিকরা বলেছেন এ ব্যাপারে বাংলাদেশকে সাহায্য করবেন।
 
মন্ত্রী বলেন, প্রতিটি দেশের প্রতিনিধিই একবাক্যে রোহিঙ্গাদের নিয়ে বাংলাদেশের নেয়া ভূমিকার সমর্থন করেছেন। এত বিরাট জনগোষ্ঠীকে আশ্রয়, চিকিত্সা ও খাদ্যের ব্যবস্থা করার জন্য প্রশংসা করেছেন বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা।
 
তিনি জানান, দশকের পর দশক ধরে ৪ লাখের বেশি রোহিঙ্গার ভার বহন করে আসছে বাংলাদেশ। গত দুই সপ্তাহে বাংলাদেশে আরো ৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে।
 
রোহিঙ্গা ইস্যুকে একটি জাতীয় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলে বহুপাক্ষিক আলোচনা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও গণমাধ্যমকেও সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।
 
রোহিঙ্গা সমস্যা মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ হলেও আমাদের ভোগান্তি মেনে নেয়া যায় না। রোহিঙ্গারা রাখাইনে দেড় হাজার বছর ধরে বসবাস করে আসছে এবং তারা মিয়ানমারের নাগরিক। রোহিঙ্গারা যে মিয়ানমারেরই নাগরিক, ইতিহাস থেকে তার তথ্য কূটনীতিকদের সামনে তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
 
তিনি বলেন, সমস্যা আমরা তৈরি করিনি। মিয়ানমার সমস্যা তৈরি করেছে এবং মিয়ানমারকেই তা সমাধান করতে হবে। এর আগে রোববার সকালে বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর পরিদর্শনে নিয়ে যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
 
এদিকে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিবন্ধনের মাধ্যমে পরিচয়পত্র দেবে সরকার। এদের আশ্রয় দিতে কক্সবাজারের কুতুপালংয়ে দুই হাজার একর জমির ওপর একটি আশ্রয়কেন্দ্রও খোলা হচ্ছে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অনুপ্রবেশের প্রেক্ষিতে সীমান্তবর্তী এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে রোববার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
 
মন্ত্রী বলেন, পরিচয়পত্র ছাড়া কোনো রোহিঙ্গা বাংলাদেশ কিংবা আন্তর্জাতিক সাহায্য-সহযোগিতা পাবে না। তারা কতজন মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসেছে, তার একটি তথ্যভাণ্ডার করা হবে।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

সম্পাদক: টুটুল রহমান

সম্পাদকীয় কার্যালয়: ৭/বি ওয়াপদা গলি, দক্ষিণ মুগদা , ঢাকা-১২১৯, বাংলাদেশ। ই-মেইল: tutulrahman219@gmail.com; যোগাযোগ: +88 01977 242272

সম্পাদক: টুটুল রহমান


সম্পাদকীয় কার্যালয়: ৭/বি ওয়াপদা গলি, দক্ষিণ মুগদা , ঢাকা-১২১৯, বাংলাদেশ। ই-মেইল: tutulrahman219@gmail.com; যোগাযোগ: +88 01977 242272

Developed by: DATA ENVELOPE