রিজার্ভ চুরি: ২ চীনা নাগরিক গ্রেফতার


Published: 2017-08-05 11:54:36 BdST, Updated: 2017-09-20 08:09:05 BdST

0

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় দুই চীনা নাগরিকের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। গত বছরই তাদের গ্রেফতার এবং তাদের ক্যাসিনোর ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাইট ব্লুমবার্গ ডটকমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

গ্রেফতাররা হলেন - ডিং (৪৫) ও গাও শুহুয়া (৫৩)।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৬ সালের মার্চে ক্যাসিনো ব্যবসায়ী ডিং-কে এবং আগস্টে শুহুয়াকে গ্রেফতার করে চীনা পুলিশ। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জুয়াকেন্দ্র ম্যাকাওতে ২০০৭ সালে একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান চালু করেন ডিং। তিনি জুয়ারিদের এনে এখানকার ক্যাসিনোতে জুয়ার আসর বসাতেন। অন্যদিকে, শুহুয়া পেইচিংয়ে একটি ক্যাসিনো চালান। ফিলিপাইনে অন্তত ২৯টি জায়গায় তার ক্যাসিনো নেটওয়ার্ক রয়েছে।

ব্লুমবার্গের বৃহস্পতিবারের প্রতিবেদনে ডিং ও শুহুয়ার যোগসাজশে পাতানো জুয়ার মাধ্যমে রিজার্ভের চুরির অর্থ ভাগাভাগির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলার ক্যাসিনো সোলারির একটি ভিআইপি কক্ষে জুয়ার আসর বসান চীনা জুয়ারি ডিং, শুহুয়া ও কয়েক সঙ্গী। খেলার সময় তারা যে ছোট পাতলা চিপ দিয়ে বাজি ধরেন, তার প্রতিটির দর ২০ হাজার মার্কিন ডলার। মূলত ওই খেলা ছিল পাতানো এবং জুয়ারীরাদের উদ্দেশ্য ছিল হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে আনা রিজার্ভের টাকা ভাগাভাগি করে নেয়া।

হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ চুরিতে সম্পৃক্ততা ডিং ও শুহুয়ার জন্য প্রথম নয়। ক্যাসিনো পরিচালনা ও জুয়ার আসরের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরেই তারা এর সঙ্গে জড়িত।

হংকং পুলিশের ধারণা, তারা দুজন বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা সরিয়ে নিতে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের সহায়তা নিতে পারেন। ওই অর্থ তারা উত্তর কোরিয়ায়ও পাঠাতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রিজার্ভ চুরির ঘটনায় এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে এক প্রতিবেদনে উত্তর কোরিয়ার জড়িত থাকার অভিযোগের স্বপক্ষে আরো প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি করে বহুজাতিক সাইবার নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিবিষয়ক অ্যান্টিভাইরাস নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কি। উত্তর কোরিয়ার প্রসিদ্ধ হ্যাকার গ্রুপ ল্যাজারস এতে জড়িত বলে দাবি করা হয়।

তবে রিজার্ভ চুরির ঘটনায় পিয়ংইয়ং জড়িত বলে অনেক আগে থেকেই বলে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা- এনএসএ। সংস্থাটির দাবি, চীনের মধ্যস্বত্বভোগীদের সহায়তায় উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা ওই বিপুল অংকের অর্থ লোপাট করে বলে তদন্তে জেনেছেন এফবিআই কর্মকর্তারা।

২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের হিসাব থেকে গত ফেব্রুয়ারিতে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার বা প্রায় ৮০০ কোটি টাকা চুরির ঘটনা ঘটে। চুরি যাওয়া অর্থের কিছু অংশ ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকের কয়েকটি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে হ্যাকাররা। চুরি যাওয়া অর্থের মধ্যে দুই কোটি ডলার শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংক শুরুতেই আটকে দেয় এবং পরে তা ফিরিয়ে দেয়। বাকি অর্থ এখনও ফেরত পায়নি বাংলাদেশ।

সুইফট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ওই চুরির ঘটনা তদন্ত করছে বাংলাদেশে একাধিক সংস্থা ও মার্কিন অ্যাটর্নি অফিস।  ধারাবাহিক তদন্তে আসতে থাকে উত্তর কোরিয়া ও চীনা হ্যাকারদের নাম।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

সম্পাদক: টুটুল রহমান

সম্পাদকীয় কার্যালয়: ৭/বি ওয়াপদা গলি, দক্ষিণ মুগদা , ঢাকা-১২১৯, বাংলাদেশ। ই-মেইল: tutulrahman219@gmail.com; যোগাযোগ: +88 01977 242272

সম্পাদক: টুটুল রহমান


সম্পাদকীয় কার্যালয়: ৭/বি ওয়াপদা গলি, দক্ষিণ মুগদা , ঢাকা-১২১৯, বাংলাদেশ। ই-মেইল: tutulrahman219@gmail.com; যোগাযোগ: +88 01977 242272

Developed by: DATA ENVELOPE