তরুণ উদ্যোমী লোকবল নিয়ে রূপালী ব্যাংককে বহুদুর নিতে চাই


Published: 2017-01-10 10:19:38 BdST, Updated: 2017-09-20 07:59:58 BdST

md rupaliটুটুল রহমান : সব অনিয়ম দূর করে ব্যাংকে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আতাউর রহমান প্রধান। একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যে দিন রূপালী ব্যাংকের সব অনিয়ম দূর করে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারব সে দিন নিজেকে সফল মনে করব।

তিনি বলেন, ব্যাংকের ৪০ শতাংশ তরুণ ও উদ্যোমী কর্মকর্তারাই রূপালী ব্যাংকের শক্তির মূল উৎস। তাদের মেধা ও শ্রমকে কাজে লাগিয়ে রূপালী ব্যাংককে কাক্সিক্ষত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন অভিজ্ঞ এই ব্যাংকার। তিনি বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে প্রযুক্তি ব্যবহারে দ্বিতীয় এই প্রতিষ্ঠানের ৫০৬টি শাখা এখন অনলাইনের আওতায় আনা হয়েছে। এই শাখাগুলোর গ্রাহক যে কোনো শাখায় লেনদেনসহ সব ব্যাংকিং সেবা পাচ্ছেন। আরো ৪৯টি শাখা এ বছরের মার্চ মাসের মধ্যে অটোমেশনের আওতায় আসবে বলে আশা করছেন তিনি। রূপালী ব্যাংককে শতভাগ প্রযুক্তিবান্ধব করতে আগামীতে ঋণ আবেদনও অনলাইনে নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। ২০১৭ সালে

রূপালী ব্যাংক ভালো কাজ করবে বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, ব্যাংক পুরোপুরি অটোমেশন হলে গ্রাহক লেনদেনও বাড়বে।

আতাউর রহমান প্রধান বলেন, তিনি গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে দায়িত্ব নেয়ার পর চার মাসের মধ্যে নন-পারফর্মিং ঋণ ৩০০ কোটি টাকা কমিয়ে এনেছেন। চলতি বছরের মধ্যে এই ঋণ ১৭ থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনবেন বলে তিনি জানান। বিস্তারিত...

গ্রাহক হিসেবে ব্যাংকটিকে কিভাবে দেখেন, সেবায় সন্তুষ্ট কিনা?

আতাউর রহমান প্রধান : রূপালী ব্যাংকের গ্রাহক যদি অনেক আগে হতাম তাহলে বক্তব্যটা ভিন্ন হতো। এখন রূপালী ব্যাংকের একজন গ্রাহক হয়ে আমি কতটুকু সন্তুষ্ট হলাম সেই বিষয়টা জড়িত। বর্তমানে রূপালী ব্যাংকের সার্ভিসটা খুব দ্রুত পাচ্ছেন গ্রাহকরা। তারা অনলাইন ব্যাংকিংয়ের সুবিধা পাচ্ছেন। আগে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হতো না, এখন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। আমাদের ৫৬৮টা শাখার মধ্যে ৫০৬টি শাখা ইতোমধ্যে অনলাইন ব্যাংকিং সেবার আওতায় এসেছে। এই বিষয়গুলো যদি তুলনা করি তাহলে আগের চেয়ে এখন রূপালী ব্যাংকের গ্রাহক হয়ে আমি অনেক সন্তুষ্টি অর্জন করেছি।

অসন্তোষের জায়গা এখনো যেটা আছে সেটা হলো যে, আমাদের রূপালী ব্যাংকের জনশক্তির ৪০ শতাংশ এখনো ৫০ বছরের ঊর্ধ্বে। এসব লোকবল দিয়ে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার যে কাক্সিক্ষত পর্যায়ে হওয়া দরকার সেটি কিন্তু হচ্ছে না। এটাকে আরো বাড়ানো দরকার। অসন্তোষের জায়গাগুলো হলো যে পর্যায়ে কার্যক্রমগুলো হওয়া উচিত সে পর্যায়ে হচ্ছে না। এটাকে আরো সম্প্রসারিত করার জন্য ব্যবস্থা নেয়া দরকার।

এই অবস্থা উত্তরণে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে কী ব্যবস্থা নিচ্ছেন?

আতাউর রহমান প্রধান : সেই ক্ষেত্রে অনলাইন ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে নতুন করে লোক নেয়ার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। সে লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে একটি অর্গানোগ্রাম মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন নেয়া হয়েছে। এরই আলোকে কিছু সিনিয়র-জুনিয়র অফিসার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছি।

২০১৭ সালে রূপালী ব্যাংক কী কারণে ভালো করবে বলে মনে করছেন?

আতাউর রহমান প্রধান : রূপালী ব্যাংক ২০১৭ সালে অবশ্যই ভালো করবে কয়েকটা কারণে। তার মধ্যে প্রথম কারণ হলো- ২০১৭ সালের মার্চের মধ্যে ব্যাংকিং কার্যক্রম প্রায় সম্পূর্ণ অনলাইনে যাবে। পুরোপুরি অটোমেটেড হবে। আমাদের এখনো প্রায় ৪৯টা শাখা বাকি আছে। এগুলো হলে আমরা পুরোপুরি অটোমেশনে যাব এবং সারা দেশেই আমরা অনলাইন ব্যাংকিং চালু করতে পারব। ফলে আমাদের গ্রাহকদের সন্তুষ্টি আসবে। আমাদের লেনদেন বৃদ্ধি হবে এবং আমানতও বাড়বে।

দ্বিতীয় কারণ হলো- আমরা ২০১৬ সালে সঠিক অবস্থানটা চিহ্নিত করতে পেরেছি। আমাদের যত ঘাটতি, যত অসঙ্গতি- সবই আমরা ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যেই চিহ্নিত করতে পেরেছি। ২০১৭ সালে আমরা যেভাবে পরিকল্পনা নিয়েছি সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে অবশ্যই আমরা ভালো করব। এ বছর আমরা নন-পারফর্মিং লোন আরো কমিয়ে আনব। গত বছর প্রায় ৩০০ কোটি টাকা কমিয়ে এনেছি। আমরা যে লক্ষ্য স্থির করেছি তাতে ২০১৭ সালের জুনের মধ্যে বর্তমানে নন-পারফর্মিং লোন ১৭ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হব। এগুলো মিলিয়ে আমি মনে করি, ২০১৭ সালে আমরা ভালো করব। এ বছর ব্যাংক মুনাফা করবেই এবং একটা কাক্সিক্ষত পর্যায়ে যাবে।

রূপালী ব্যাংকের শক্তির জায়গা কোথায়?

আতাউর রহমান প্রধান : শক্তির জায়গা হচ্ছে ৪০ শতাংশ তরুণ ও উদ্যোমী লোকবল। এই ৪০ শতাংশ তরুণদের দিয়েই কিন্তু সম্ভব উন্নতি করা। এসব জনবলকে আমি যদি মোটিভেট করে কাজে লাগাতে পারি, তাহলে উন্নতি ঘটবে। সেই লক্ষ্যে আমরা ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছি। ৫৬২টা শাখার ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের দিকনির্দেশনা দিয়েছি। আমি দেখলাম ৫৬২ জন ম্যানেজারের মধ্যে ৯০ শতাংশই তরুণ। এদের যদি আমরা মোটিভেট করতে পারি তাহলেই রূপালী ব্যাংকের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। এটাই আমাদের মূল শক্তির জায়গা।

আর আমাদের অন্যতম দুর্বলতা হচ্ছে নন-পারফর্মিং কিছু লোন আছে অনেক পুরনো, এগুলোকে পারফর্ম করানোটাই আমাদের দুর্বলতা। তবে আমি মনে করি এটা কমিয়ে আনা সম্ভব।

গত বছরে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা ছিল, তারপরও কাক্সিক্ষত বিনিয়োগ হয়নি কেন?

আতাউর রহমান প্রধান : আমি রূপালী ব্যাংকে এসে লক্ষ করলাম আমাদের সব ব্যাংকের বেশির ভাগ ঋণ কিন্তু ঢাকাকেন্দ্রিক। এর কারণে ঢাকার বাইরে অন্যান্য জায়গায় যে উন্নয়ন হওয়ার কথা ছিল সেটা হয়নি। রূপালী ব্যাংক সরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ছোট ব্যাংক।

আমরা ঢাকাকে বিবেচনায় রেখে আমাদের বেশির ভাগ ঋণ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দেয়ার চেষ্টা করব। জেলা ও উপজেলায় আমরা কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব দিয়েছি। পাশাপাশি আমরা এসএমইর ওপর জোর দিয়েছি। এসএমই অর্থায়নের মাধ্যমে আমরা আমাদের অর্থায়নের ভিতটা শক্ত করতে চাই। সেই লক্ষ্যে এখন আমরা কাজ করছি। তবে সব ধরনের অভিজ্ঞ লোকবল সব জায়গা দেয়া সম্ভব নয়। আমরা যেটা করেছি সেটা হলো আমরা লোনের প্রস্তাবনা স্থানীয়দের কাছ থেকে চেয়েছি এবং সেটা এখানকার অভিজ্ঞদের কর্মকর্তাদের দিয়ে যাচাই-বাছাই করা হবে। লোনগুলো নিষ্পত্তির জন্য বিভাগীয় পর্যায়েও কিছু লোকবল দেয়া হবে। লোন দেয়ার যে দীর্ঘসূত্রতা ও জটিলতা তা দূর করতে অনলাইনে লোনের প্রপোজাল নেয়ার চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। অনলাইনে ঋণের আবেদন নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছি। এই আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করে দ্রুত নিষ্পত্তি করে দেয়া হবে। আমাদের অনেক কিছু করার আছে আসলে। সেগুলো ধাপে ধাপে করব। সরকারি ব্যাংকগুলো অনেক পিছিয়ে রয়েছে। তবে এখন আর পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই। বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যবেক্ষণ করছে। ব্যাংকগুলোও তাদের চিন্তা-চেতনা পরিবর্তন করছে।

লোকসানি শাখাগুলো লাভজনক করার কি উদ্যোগ নেবেন?

আতাউর রহমান প্রধান : ম্যানেজারের দায়িত্বই হলো আমানতকে কাজে লাগানো। কিছু কিছু শাখা আছে যে শাখাগুলো ডিপোজিটভিত্তিক। সব ডিপোজিট বিনিয়োগ করা যায় না। যেমন ধরেন এয়ারপোর্ট শাখা। এই শাখায় শুধু ডিপোজিটটাই নিতে পারে। ওখানে লোন দেয়ার মতো লোক নেই। আবার চট্টগ্রাম বন্দর শাখা। ওখানে এত ডিপোজিট কিন্তু ওই ম্যানেজার কাকে লোন দেবেন। কাজেই কিছু কিছু শাখায় ম্যানেজাররা শুধু ডিপোজিটই নেবেন। আর অনেক শাখায় ম্যানেজাররা ডিপোজিটকে সঠিকভাবে বিনিয়োগ করবেন। কিন্তু এখন তাদেরও লোন দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

গ্রাহকদের নিরাপত্তা দিতে প্রযুক্তির ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নিয়েছেন?

আতাউর রহমান প্রধান : আপনি জানেন অটোমেশনটা এখন যুগের দাবি। এখন শিক্ষিত-অশিক্ষিত নির্ধারিত হচ্ছে আইটি জানা-না জানার ওপর। যে আইটি জানে সে শিক্ষিত আর যে আইটি জানে না সে অশিক্ষিত। এভাবেই বিষয়টা বিবেচনা করা হচ্ছে।

এখন অটোমেশন যত দ্রুত করছি তত ঝুঁকির দিকগুলো বাড়ছে। আমরা কয়েক দিন আগে মালয়েশিয়ার একটি অভিজ্ঞ দলের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা জানতে চেয়েছি আমরা কতটুকু নিরাপত্তার মধ্যে আছি। এটা অডিট করার জন্য আমাদের লোক দরকার। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তিকে নিরাপদ করার জন্য কিছু কিছু পদক্ষেপ তো নিতেই হবে। তবে পাশাপাশি এ কথাও ঠিক হ্যাকিং পৃথিবীর সব দেশেই হচ্ছে। হ্যাকার আমাদের চেয়েও স্মার্ট। আমরা যারা আইটি জানি তারা তাদের চেয়েও বুদ্ধিমান। কাজেই তারা এটা করতেই থাকবে। আমাদের আরো বেশি সতর্ক হতে হবে। আমরা সব সময় খেয়াল রাখছি। কাজও করে যাচ্ছি। সব সময় সফটওয়্যার আপডেট করছি।

বড় ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিচ্ছেন?

আতাউর রহমান প্রধান : আসলে বড় ঋণ দিলে বড় খেলাপি হওয়ার শঙ্কা থাকবেই।

আমি আমাদের শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির প্রত্যেকজনের সঙ্গেই কথা বলেছি। তাদেরও কিছু কিছু যৌক্তিক সমস্যা আছে। তা না হলে তো তারা খেলাপি হতো না। আর ব্যবসায় তো ওঠা-নামা থাকবেই। কখনো ভালো কখনো মন্দ। সবচেয়ে বড় কথা হলো ২০১৫ সালে আমি গ্রাহকদের কাছ থেকে ঋণ আদায় করেছি মাত্র ৭ কোটি টাকা। ২০১৬ সালে আদায় হয়েছে প্রায় ১০০ কোটি টাকা। শ্রেণিকৃত ঋণ আদায় অনেক বেড়েছে। ৩০০ কোটি টাকা তো শুধু নগদ আদায় করেছি। ২০১৫ সালে ছিল ১১২ কোটি টাকা। ২০১৬ সালে আদায় করেছি ৩০০ কোটি টাকা। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো ডিসেম্বর মাসেই আদায় করেছি ১০০ কোটি টাকা।

প্রধান নির্বাহী হিসেবে নিজেকে কখন সফল মনে করবেন?

আতাউর রহমান প্রধান : ব্যাংকের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী যে দিন বলবেন, রূপালী আমার মাতৃসম প্রতিষ্ঠান, সে দিন ব্যাংকের সব অনিয়ম-অন্যায় দূরীভূত হবে। রূপালী ব্যাংকের পুরো জনশক্তির মধ্যে যে দিন এ মনোভাব সৃষ্টি করতে পারব, খেলাপি ঋণের হার স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে নামিয়ে আনতে পারব, পুরো ব্যাংকে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারব- সে দিন ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিজেকে সফল মনে করব।

গ্রাহকদের উদ্দেশে কিছু বলেন?

আতাউর রহমান : আমি গ্রাহদের এটুকুই বলতে চাই যে, রূপালী ব্যাংক সরকারি ব্যাংক এবং এ ব্যাংকের মনোগ্রাম কিন্তু বটগাছ। তার মানে এটা সুশীতল ছায়ার প্রতীক। আমি তাদের বলব এই বটগাছের সুশীতল ছায়ায় আসার জন্য। তাদের ধরে রাখার জন্য আমরা যে পদক্ষেপ নিয়েছি যে ভালো ভালো সেবা চালু করেছি তারা তা গ্রহণ করবেন। আমাদের কাজ করার সুযোগ দিন। সেবা দেয়ার সুযোগ দিন। আমরা সেবা দেয়ার জন্য তৈরি আছি। আমি আশা করি, গ্রাহকরা আমাদের কাছ থেকে বিমুখ হবেন না। তারা বটগাছের ছায়াতলে অবশ্যই আশ্রয় নেবেন।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

সম্পাদক: টুটুল রহমান

সম্পাদকীয় কার্যালয়: ৭/বি ওয়াপদা গলি, দক্ষিণ মুগদা , ঢাকা-১২১৯, বাংলাদেশ। ই-মেইল: tutulrahman219@gmail.com; যোগাযোগ: +88 01977 242272

সম্পাদক: টুটুল রহমান


সম্পাদকীয় কার্যালয়: ৭/বি ওয়াপদা গলি, দক্ষিণ মুগদা , ঢাকা-১২১৯, বাংলাদেশ। ই-মেইল: tutulrahman219@gmail.com; যোগাযোগ: +88 01977 242272

Developed by: DATA ENVELOPE