গ্রাহকের সন্তুষ্টি অর্জনে কাজ করছে এনসিসি ব্যাংক


Published: 2016-12-12 11:03:26 BdST, Updated: 2017-09-20 07:59:28 BdST

md ncc২৩ বছরে পা দিয়েছে এনসিসি ব্যাংক। গ্রাহকের প্রত্যাশা কতখানি করতে পেরেছে?
গোলাম হাফিজ আহমেদ : তেইশ বছর অনেক দীর্ঘ সময়। এ সময়ে অর্থনীতির  আকার বড় হয়েছে প্রবৃদ্ধি  হয়েছে। ব্যাংকের সংখ্যাও  অনেক বেড়েছে। আমাদেও ব্যালেন্স শিটের সাইজ বেড়েছে। পাশাপাশি জটিলতাও কিন্তু বেড়েছে। বাজারে প্রতিযোগিতা, অর্থনৈতিক সৃজনশীলতা বেড়েছে। আমরা মনে করি এই পরিস্থিতিতে আমাদের ব্যাংক অনেক বেশি অগ্রগামি। অন্যদিকে বাংলাদেশের অর্থনীতি গ্লোবাল অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত  এগিয়ে চলেছে। আমরা এগিয়ে চলেছি।
আমাদের গ্রাহকরাও অনেক এগিয়ে গেছে। তারা অনেক বড় বড় ব্যবসা করছে। এই যে গ্রাহকরা  বেড়ে উঠছে এটা ব্যাংকের সহযোগিতার মাধ্যমেই কিন্তু করছে।
এনসিসি ব্যাংক ২৩ বছরের ব্যাংক পরিবর্তন হয়েছে। উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে। এই পরিবর্তন শুধু বাহিরের অবয়বের পরিবর্তন নয়  সবদিক দিয়ে পরিবর্তন হয়েছে। এই ২৩ বছরে আমরা মনে করি গ্রাহকের চাহিদা এবং যে প্রতিশ্রুতি নিয়ে ব্যাংক যাত্রা শুরু করেছিল তা পুরণ করতে সক্ষম হয়েছে। গ্রাহকের বেড়ে ওঠার জন্য যুগপোযোগি অনেক পরিবর্তন আনা হয়েছে। আমরা সব সময়  গ্রাহকের পাশে থেকে তাদের বেড়ে ওঠার জন্য সহযোগিতা করেছি। তাদের যে ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন, দিক নির্দেশনা আমরা  দিয়েছি। গ্রাহককে ব্যবসায় টিকে থাকতে যে ধরনের সহযোগিতা প্রোডাক্ট প্রয়োজন সেগুলো আমরা নিয়ে এসেছি। যদিও  একটু  চাপ এসেছে কারণ আমানতের সুদের কিন্তু  খুব একটা কমেনি। আমাদের কস্ট অব ফান্ড সেভাবে কমেনি।  আমাদের  ব্যবস্থাপনার ব্যয় সেভাবে কমেনি। এর পরেও আমাদের কিন্তু বিনিয়োগ বাড়াতে হচ্ছে। নতুন বিনিয়োগে যেতে হচ্ছে। অবকাঠামোয়, আইটিতে, মানবসম্পদে বিনিয়োগ করতে হচ্ছে। এ কারণে ওভার হেডটা সেভাবে কমছে না। কস্ট অব ফান্ড সেভাবে কমছে না। কিন্তু  আমার  প্রাইজিং কমে যাচ্ছে। তবে এটাও ঠিক সেগুলো  আমরা কাঠিয়ে উঠতে শুরু করেছি।
আপনারা কোন দিকে জোর দিতে চাচ্ছেন ?
গোলাম হাফিজ আহমেদ : আমরা ফোকাস করতে চাচ্ছি রিটেইলার  গ্রাহকদের। কারণ আমরা মনে করি মধ্যবিত্তের সংখ্যা বাড়ছে। এদের ক্রয় ক্ষমতাও বাড়ছে। অর্থনীতির মূল শক্তি হচ্ছে এরা। বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়া যেমন একটা দিক আরেকটা  হচ্ছে শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা যোগান দেয়া।
আমাদের যে বিশাল বড় মার্কেট। প্রায়  ১৬ কোটি মানুষের মার্কেট। এটার একটা বিশাল  গ্রুপ হচ্ছে ইয়ং জেনারেশন। বিরাট অংশ হচ্ছে যুবশক্তি। তাদের হাতে ক্রয় ক্ষমতা আসছে। গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হচ্ছে।  গ্রামে একটা বিরাট ধরনের ক্রয়  ক্ষমতা তৈরি হচ্ছে। এটাকে কোনো ভাই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই।  কারণ গ্রামীণ অর্থনীতিতে মানুষের আয় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগের কর্মকান্ডও বেড়েছে। কৃষিখাত বাদ দিয়েও নতুন নতুন খাত আসছে। ফিসারি, ডেইরী, পোলট্রি। এছাড়াও গ্রামের রেমিট্যান্স প্রবাহও বাড়ছে। রেমিটেন্সের ৮০ শতাংশই কিন্তু গ্রামে যাচ্ছে। এই টাকার যাদের হাতে যাচ্ছে তাদের ক্রয় ক্ষমতা বাড়ছে। তারা ইলেট্রনিক্স জিনিস কিনছে। তারা সুন্দর সুন্দর বাড়ি বানাচ্ছে। এই যে বাড়িগুলো বানাচ্ছে এগুলো কিন্তু আমাদের বড় কর্পোরেট গ্রাহকদের সহযোগিতা করছে। তারা সিমেন্ট বিক্রি করছে, রড বিক্রি করছে, অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস বিক্রি করছে। এগুলোর উপকারভোগি কিন্তু আমরা ব্যাংক হচ্ছি। কারণ এইসব বড় বড় প্রজেক্টগুলোতে আমরা অর্থায়ন করেছি। আমাদের সরবরাহের কারণে চাহিদা তৈরি হয়েছে। এতে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে। অর্থনীতি গতি পাচ্ছে।
নতুন কোনো প্রকল্প হাতে নেবেন কি?
গোলাম হাফিজ আহমেদ : আমরা কিছু ইএমভি  স্ট্যাডার্ড কার্ড সেবা। চালু করবো। মাস্টার ও ভিসা কার্ড। আমাদের গুরুত্বপূর্ণ বা প্রাধান্য রয়েছে এমন গ্রাহকদের জন্য আরেকটু সুবিধা দেবো। তারা বিভিন্ন এয়ারপোর্ট, লাউঞ্জে বিশেষ সুবিধা পাবেন। সেটা আমরা   ইতিমধ্যে শুরু করেছি। তারপরে এসএমই খাতে আমরা গুরুত্বটা রাখতে চাচ্ছি। কিছু নতুন এসএমই প্রোডাক্ট তৈরি করবো। এসএমইকে একেবারে তৃণমুল পর্যায়ে যেমন আমরা যেন একটা মোটর সাইকেলেও লোন দিতে পারি। কারণ মনে করি একটা মোটর সাইকেরও আয় করার একটা অবলম্বন।  ছোট সিএনজি অটোরিক্সার  কিনতে পারে এমন প্রকল্প থাকবে। এগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে যেন ঋণ দেয়া যায় সেধরনের প্রকল্প আনা হচ্ছে। আর আমাদের যে রিটেইল প্রোডাক্ট রয়েছে সেগুলোকে নতুন করে বিন্যাশ করতে চাচ্ছি। নতুন নতুন ফিচার দিয়ে। এগুলোকে আরো যুগপোযোগি করা হচ্ছে। আর কিছু কিছু প্রোডাক্ট আমরা টপ ক্লাইন্টদের জন্য চালু করেছি, গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ি।
এসএমই আমাদের অত্যন্ত ফোকাস এরিয়া। প্রতি বছরই আমাদের যে এসএমই টার্গেট থাকে সেটাকে আমরা এক্সিট করে যাচ্ছি। আমাদের মোট পোর্টফোলিওর  ৩৮ শতাংশ এসএমই। আমাদের গ্রামীণ শাখাগুলো, মফস্বল শাখাগুলোর মাধ্যমে এসএমই গ্রাহদের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি। এগ্রিকালচার খাতেও আমরা লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছি। বাংলাদেশ ব্যাংকের দিক নির্দেশনা মেনেই।
তথ্য প্রযুক্তি যে চ্যালেঞ্জ সেটাকে কিভাবে দেখছেন ?
গোলাম হাফিজ আহমেদ : আমরা ইতিমধ্যে একজন আইটি এক্সপার্টকে আইডি হেড করেছি। আমাদের আইটি ও ইনফরমেশন বিভাগকে  নতুন করে সাজাচ্ছি। আমরা বেশ কিছু নতুন জব তৈরি করছি। ইউনিভার্সিটির গ্রাজুয়েট ইঞ্জিনিয়ার ১৫ ২০ জনকে আমরা পর্যায়ক্রমে নিয়োগ দেবো। বিভাগগুলোকে নতুন করে বিন্যস্ত করতে চাচ্ছি। আইটিতে আমরা আপগ্রেটেড সিস্টেমে আমরা যাবো এটা বলতে পারি। আমাদের টিমের পাশাপাশি একটি বিদেশী কনসালটেন্সি ফার্মকে নিয়োগ দিচ্ছি। প্রজেক্টটাকে এগিয়ে নেয়ার জন্য। সব কিছু করার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে এখনকার  আইটির চ্যালেঞ্জকে মোকাবেলা করা। সব কিছুকে দ্রুত করা, নিরাপদ করা এবং ভোলিয়ন বেজ যে ট্রানজেকশন তাকে ম্যানেজ করা। এছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ি ডাটা সেন্টারে বাইরে ডিআর সেন্টার করছি। একটা  ডিআর সেন্টার ছিল সেখানে আরেকটা ডিআর সেন্টার করছি। আইটির ব্যাপারে  আমরা সতর্কতার সঙ্গে  এগিয়ে যাচ্ছি। যাতে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা না আসে।
নতুন বছরে গ্রাহকদের জন্য কোনো সুখবর আছে কিনা ?
গোলাম হাফিজ আহমেদ : আমি বিশ্বাস করি  এনসিসি ব্যাংক এমন একটি ব্যাংক যা উদ্দেশ্য হচ্ছে গ্রাহকের সন্তুষ্টি। আমরা গ্রাহকের বলছি আগের এনসিসি ব্যাংক ও বর্তমান এনসিসি ব্যাংকের মধ্যে অনেক পার্থক্য। নতুন নতুন পরিবর্তন এসেছে। আমরা নতুন হৃদপিন্ড নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।
এই নতুন যাত্রায় আমাদের শাখাগুলোকে আমরা অনেক ভাবে সাজিয়োিছ। অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জার অনেক পরিবর্তন আনা হয়েছে। আমরা কাস্টমার কেয়ার বাড়িয়েছি। গ্রাহকের সন্তুষ্টি বাড়ানোর চেষ্ট করে যাচ্ছি। গত এক বছর আগে আমরা লোগো  বদলেছি। আমাদের ব্র্যান্ড ইমেজ চেঞ্জ করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।  আমরা দক্ষ মানব সম্পদ তৈরিতে বিনিয়োগ করবো। নতুন এক বছর আমরা কোনো শাখা খুলিনি কিন্তু ব্র্যাঞ্চগুলোতে নতুন করে সাজিয়েছি। গত এক বছরে আমরা আমাদের শেয়ার হোল্ডারদের, স্টেক হোল্ডারদের এবং  গ্রাহকদের সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করেছি। সেই সঙ্গে বেনিফিটটা শেয়ারহোল্ডারদের  দেয়ার চেষ্টা করেছি। আমরা এই বার প্রথম শেয়ারহোল্ডারদের ক্যাশ ডিভিডেন্ট দিয়েছি। আমাদের শেয়ারের দামও অত্যন্ত স্থিতিশীল। আমাদের দক্ষ একটি ম্যানেজমেন্ট টিম রয়েছে।  আমরা চেষ্টা করছি আমাদের লোকদের দক্ষতা বাড়ানোর। আমরা  তাদের প্রতিনিয়ত ট্রেনিং দিচ্ছি। মোটিভেট করছি। তাদের সন্তুষ্ট করছে ইনসেনটিভ বোনাসও দিচ্ছি। আমরা বিশ্বাস করি আমাদের ফোকাস হচ্ছে ওন পিপল।  আমরা বিশ্বাস করি একটি অর্গানাইজেশনের জন্য মানবসম্পদ হচ্ছে আসল। তাদের লেবেল, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, জ্ঞানই হচ্ছে  আমাদের সম্পদ। তারা ভালো কাজ করলে  গ্রাহক ভালো সেবা পাবে।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

সম্পাদক: টুটুল রহমান

সম্পাদকীয় কার্যালয়: ৭/বি ওয়াপদা গলি, দক্ষিণ মুগদা , ঢাকা-১২১৯, বাংলাদেশ। ই-মেইল: tutulrahman219@gmail.com; যোগাযোগ: +88 01977 242272

সম্পাদক: টুটুল রহমান


সম্পাদকীয় কার্যালয়: ৭/বি ওয়াপদা গলি, দক্ষিণ মুগদা , ঢাকা-১২১৯, বাংলাদেশ। ই-মেইল: tutulrahman219@gmail.com; যোগাযোগ: +88 01977 242272

Developed by: DATA ENVELOPE