বিশেষ সাক্ষাতকারে রেইন ফরেস্ট রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের সিইও সামছ জাহান ইতিআবাসন শিল্পে নতুন মাত্রা যোগ করার ব্রত নিয়ে আমার জয় যাত্রা


Published: 2017-05-02 23:00:17 BdST, Updated: 2017-09-20 08:05:39 BdST

etiএ মুহুর্তে আমি কাজ করছি আবাসন নিয়ে। আবাসন শিল্পে একটি নতুন মাত্রা যোগ করার ব্রত নিয়ে আমার এই জয় যাত্রা। আবাসন শিল্প একটি ক্রান্তি কাল অতিক্রম করছে এ মূহুর্তে। তার পরও আমাদের এ সাহসী পদক্ষেপ। কারন আমি সময়ের সাহসী সন্তান।

আমার টার্গেট গ্রুপ নিম্ন মধ্যবিত্ত। যারা মাসে ১৫০০০.০০ টাকা সঞ্চয় করতে পারে তারা আমার ক্রেতা হতে পারবেন।

আমার প্রতিষ্ঠাটান রেইন ফরেস্ট রিয়েল এস্টেট লিমিটেড।  আমি এখানে সিইও হিসেবে কাজ করছি।

সুরু থেকেই নিম্ন মধ্যবিত্তশ্রেনীর জন্য আবাসনকে ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসার অংগিকার আমরা আমাদে প্রোডাক্ট প্লান এবং প্রাইস প্লান সাজিয়েছি।

আমাদের আবাসন গড়ে উঠবে ঢাকার অদুরে বলিয়ারপুরের গান্ধারিয়া নামক স্থানে। প্রথম প্রজেক্টটি হবে ৬৪ ডেসিম্যাল জমি নিয়ে।

ফ্লাট সাইজ হবে ৭৫০ ও ১৫০০ বর্গফুট। 

সর্বনিম্ন ১৭৫০০০০.০০ এককালীন পরিশোধ এ একজন ব্যক্তি একটি ফ্লাটের মালিক হওয়া যাবে। অথবা কেউ যদি মনে করেন কিস্তিতে নিবেন। তাও সম্ভব। 

কিস্তি পদ্ধতি : বুকিং - ৫০০০০.০০ এককালীন ১৫০০০০.০০ 

তিন মাসেরএর মদ্ধ্যে টাকা প্রদান করতে হবে। একবছর পর হতে মাসে ১৫০০০.০০ করে ১০ বছর প্রদান করবেন।

তিন বছর কিস্তি দেবার পর ক্রেতা ফ্লাট বুঝে পাবেন।পরবর্তী ৭ বছর তিনি ফ্লাটে উঠে টাকা পরিশোধ করবেন।

সুবিধাদি : ঢাকা টু প্রজেক্ট  নিজস্ব পরিবহণ ব্যবস্থা, প্রজেক্ট এর ততবাব্ধানে।  মসজিদ,মার্কেট, কমিউনিটি হল, জুনিয়র স্কুল। প্রাথমিক ভাবে ২০০০০০.০০ টাকা পরিশোধ এর পর রেশিও অনুযায়ী জমির মালিকানা দেয়া হবে।আমার সংগ্রাম সফলতা : ১৯৯৩ ইং সাল থেকে শুরু হয় আমার জীবন যুদ্ধ । বিবাহিত জীবনের শুরুতেই স্বামীর শারীরিক অসুস্থতার কারনে অর্থনৈতিক ভাবে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ি , অভাব অনটন ও দৈনতার ভেতর দিয়ে বছরের পর বছর আমি বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে পরিবারের সকল প্রকার দায়িত্ব পালন করে থাকি । স্বামী সৈয়দ রেজাউল আমিল তিনি তখন একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকুরী করা অবস্থায় হৃদরোগ জনিত কারনে কর্ম থেকে বিরত থাকেন । তখন থেকেই পারিবারিক সামাজিক ও নানান প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হতে হয়েছে আমাকে । কখনো আমি নিরাশ হইনি আল্লাহ্‌র উপরে ভরসা রেখেই স্বামী সন্তানের মুখের পানে চেয়ে মনে প্রবল শক্তি ও সাহস পেতাম আমার প্রতিটি কাজের বেলায় । পরিবারের জোশঠ পুত্র বউ হওয়ার কারণে আমার অনেক দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে ।জীবন সংরামের শুরুতেই পরিবারের কিছু সদস্য ছিল আমার মতের বিরুদ্ধে কিন্তু তাতেও আমি হতাশ হইনি । স্বামীর অসুস্থতা ও বেকারত্বের কারনেই আমাকে পারিবারিক ও সামাজিক অনেক নিরযাতন সয্য করেই এগিয়ে যেতে হয়েছে খরস্রোতা জীবনের দিাবার কে । 

১৯৯৬ ইং সালে আমার প্রথম কর্মসূচি ছিল মাছের চাষ ও শাক সবজীর বাগান করা , পুকুর ও একটা বিলের আংশিক অংশ মাছের চাষের জন্য লিজ নিই । পুকুরের চারিপাশে পেপে ও লাউয়ের সাথে বাগানে বিভিন্ন শাক সবজীর চাষ করে অর্থনৈতিক ভাবে বেশ কিছুটা স্বাবলম্বী হতে সক্ষম হই । পরবর্তী বছরে প্রাকৃতিক বন্যায় ক্ষতি গ্রস্ত হই । তারপরেও হাল ছেড়ে দিইনি । ময়মনসিংহ শহরের একজন প্রভাবশালী স্বনামধন্য ব্যাক্তি ছিলেন আমার বাবা হাজি আব্দুল মালেক আকন্দ । তিনি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেন সুপারেন্টেন্ট ছিলেন । আমার বাবা একজন ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযোদ্ধা । তিনি এগ্রো ফিড এর উপর গবেষণা করে হাস মুরগীর জন্য উন্নত মানের খাবার তৈরি করে এরশাদ সরকারের আমলে বাংলাদেশ সরকারের কাছে গবেষণার সকল ও সফল তত্ত্ব ও তথ্য হস্তান্তর করে আবারো নিজেকে একজন দেশ প্রেমিক হিসাবে প্রমান করেন । যার কারণে আমার বাবাকে বাংলাদেশ সরকার কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আজিবন চাকুরী করার অনুমতি প্রদান করেন । আমার মা সারোয়ার -ই- জাহান তিনিও একজন ভাষা সৈনিক ছিলেন । ঢাকা শেরেবাংলা এগ্রি ইনিস্টিটিউট থেকে পাশ করে বেশ কিছুদিন কৃষিবিদ হিসাবে কাজ করেন । দুজন সংগ্রামী বাবা ও মায়ের সন্তান হিসাবে আমি গর্ববোধ করি । আমার কর্মযুদ্ধের অনুপ্রেরণা ছিলেন আমার সাহসী বাবা ও মা ।

সময়ের সাথে তাল মিলাতে গিয়ে পুনরায় যখন হিম সিম খাচ্ছিলাম তখন দেশের বাড়ি টাংগাইল ধন বাড়িতে স্বামী স্ত্রী মিলেই শুরু করি হাঁসমুরগির খামার সহ ধান চাউলের ব্যবসা । পাশাপাশি শুরু করি সামস রেজা কুটি্র শিল্প নামক একটি হস্ত শিল্প কারখানা যার মাধ্যমে ৪৫ জন দরিদ্র মহিলার কর্ম সংস্থানের ব্যাবস্থা হয় । এই প্রতিষ্ঠানের হস্ত শিল্প ও হাতের কাজের শাড়ি ও ত্রিপিছ ময়মনসিংহ জেলার পালিকা মার্কেট সহ ঢাকার গাউসিয়া , নিউমার্কেট ও মৌচাক মার্কেটের বিভিন্ন শো রুমে ডেলিভারি দিয়ে অর্থ উপার্জন করতে থাকি । আমি আত্ম তৃপ্তি পাই যখন মনে করি আমার উপার্জিত অর্থ দ্বারা স্বামী , সন্তান সহ শ্বশুর শাশুড়ির চিকিৎসা পর্যন্ত আমি করতে পেরেছি । আমার শ্বশুর ছিলেন সরিষাবাড়ি অবস্থিত আলহাজ জুট মিলের জেনারেল ম্যানেজার ।  তিনি অবসরপ্রাপ্ত ছিলেন বিধায় বড় পরিবারের হাল ও দায়দায়িত্ব পালনে তিনিও বিধ্বস্ত হয়ে পরেন । কিন্তু আমি শক্ত মনোবল নিয়ে এগিয়ে যাই আগামির পথে । একসময় স্থায়ী ভাবেই ধাকায় চলে আসি স্বামী চাকুরী করতে শুরু করেন কিন্তু চাহিদা ক্রমশই বেরে চলে যার দরুন আমি ফিড  নামক একটি মাইক্রো ক্রেডিট এনজিওদতে সহকারী অডিট অফিসার হিসাবে যোগদান করি । কিছুদিন পর নানান কারণে চাকুরী ছেড়ে নতুন কিছু করার চিন্তা করতে থাকি । একদিন সিদ্ধান্ত নিলাম কোচিং সেন্টার খুলবো ।

২০০৭ ইং সালে মিরপুর- সেকশন ১১ তে মাত্র ১০ জন ছাত্র নিয়ে " পাঠশালা" নামক একটি কোচিং সেন্টার খুলি । রোদ বৃষ্টি মাথায় নিয়ে বিভিন্ন স্কুল কলেজের দ্বারে দ্বারে অভিবাবকের সাথে মত বিনিময় করে ১০জন থেকে ২৫০ জন ছাত্র নিয়ে পাঠশালা কিন্ডার গার্ডেন স্কুল এন্ড কোচিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা করি । সুশৃঙ্খল ও মান সম্মত পাঠ দানের কারণে এই প্রতিষ্ঠানের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে । সেই সময় ইসলামিক তেলিভিশনে সফল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে আমার একটি বিশেষ সাক্ষাত কার নেয়া হয় । 

পাঠশালা স্কুল এন্ড কোচিং সেন্টারের পর নতুন করে সামস একাদেমি নামক আরেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গরে তুলি । 

২০১০ ইং সালে মিরপুর বেনারশি পল্লীতে ডি এস শারি বিতান নামে টাঙ্গাইলের তাত ও জামদানী শাড়ির এক্তি বিক্রয় কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করি । জীবনের চাহিদা ক্রমশই বাড়ছে বলে চলার গতি কখন থেমে থাকেনি । 

২০১২ তে এসে রেন্ট এ কার ও শেয়ার বাজারে পুঁজি বিশাল অংকের পুঁজি বিনিয়োগ করি আর এখানেই আমি আমার জীবনের গতি পথে মারাত্মক ভাবে ক্ষতি গ্রস্থ হই । মুর্ষে পরলেও ভেঙ্গে পড়িনি ।

২০১৪ ইং সালে বড় ছেলে সৈয়দ তাশরিক আল আমিন ধ্রুব জাহাঙ্গির নগর বিশ্ব বিদ্যালয়ে ২ ইয় বর্ষে পড়ুয়া ছাত্র এবং ছোট ছেলে ঢাকা মিরপুর স্কুল এন্ড কলেজে নবম শ্রেণীর ছাত্র সৈয়দ আন নাফিজ আল আমিন সুপ্ত মায়ের জীবন যুদ্ধের শ্রেষ্ঠ ভরসা ও বীর সৈনিক হয়ে মায়ের পাশে মাথা উচু করে দাড়ায় । ভীষণ সঙ্কটময় সময়ের মাঝে দুই সন্তানের সহযোগিতা নিয়ে দিন রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে  ১৬ টা কম্পিউটার দিয়ে ‘সাইবার ক্যাফে’ অ্যান্ড ‘দি সাইবারশন’ নামে একটি অন লাইন গেমিং জোন । ব্যবসার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠা দিই  একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান " স্পন্দন সমাজ কল্যাণ সংস্থা " যার মাধ্যমে দুঃস্থ নারী শিশু ও প্রতিবন্দি শিশুদের চিকিৎসা ও শিক্ষা এবং আর্থিক সহযোগিতা করা হত ।

এছাড়াও আমি দেশের কয়েকটি প্রতিষ্ঠিত সংগঠনের সাথে জরিত আছি । বর্তমানে আমি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত "  লাল সবুজ " নামী সংগঠনের সহসভাপতি এবং বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন এর কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক হয়ে কাজ করছি । 

সত্যি আজকে আমি একজন নারী হয়ে সমাজের নানা প্রতিকুলতার সাথে যুদ্ধ করে একজন সফল ব্যাবসায়ি হিসাবে নিজেকে ধন্য মনে করি আর  অতীতের কথা ভাবলে চোখে জল আসে সময়ের স্রোতে ভেসে গেছে জীবনের অনেক না পাওয়া অনেক দুঃখ কষ্ট । ১৯৭৬ সালে ময়মনসিংহ জেলার কেউয়াট খালী গ্রামে সোনার চামুচ মুখে নিয়ে জন্মেছিলাম । ছোট বেলা থেকেই ডান পিটে স্বভাবের ছিলাম । স্কুল জীবনে সাতার ও সাইকেল রেস সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্ম কাণ্ডের সাথে জরিত থাকা সেই আমি আর এই আমির তেমন কোন পার্থক্য নেই আজো আমি জীবনের প্রতিটি প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করে থাকি । 

 

 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

সম্পাদক: টুটুল রহমান

সম্পাদকীয় কার্যালয়: ৭/বি ওয়াপদা গলি, দক্ষিণ মুগদা , ঢাকা-১২১৯, বাংলাদেশ। ই-মেইল: tutulrahman219@gmail.com; যোগাযোগ: +88 01977 242272

সম্পাদক: টুটুল রহমান


সম্পাদকীয় কার্যালয়: ৭/বি ওয়াপদা গলি, দক্ষিণ মুগদা , ঢাকা-১২১৯, বাংলাদেশ। ই-মেইল: tutulrahman219@gmail.com; যোগাযোগ: +88 01977 242272

Developed by: DATA ENVELOPE